আরপিও সংশোধনের বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই-ইসি সচিব

প্রকাশিতঃ 7:06 pm | July 15, 2018


নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির গঠনতন্ত্রের বিলুপ্ত সাত ধারার অনুরোপ একটি ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংযোজনের বিষয়ে বিএনপিকে আর দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না। অন্তত নির্বাচন কমিশন এ কথা জানিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদেরকে বলেন, আরপিও সংশোধনের বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের বিলুপ্ত ধারায় ছিল রাষ্ট্রপতির আদেশ ৮ এর দায়ে দণ্ডিত, দেউলিয়া, উন্মাদ এবং দুর্নীতিপরায়ন ও কুখ্যাত ব্যক্তিদের বিএনপির সদস্য হতে পারবেন না।

তবে গত ফেব্রুয়ারিতে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়ের আগে আগে ধারাটি বাদ দিয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয় বিএনপি।

এই ধারাটি সংশোধন করায় আওয়ামী লীগের আক্রমণে পড়তে হয়েছে বিএনপিকে। এই ধারাটি বাদ দিয়ে বিএনপি দুর্নীতিতে আত্মীকরণ করে নিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

এই ধারাটি বিএনপির গঠনতন্ত্রে থাকলে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের দলীয় সদস্যপদ থাকার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। কারণ প্রথম জনের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা আর দ্বিতীয় জনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২২ কোটি টাকা জরিমানার আদেশ এসেছে।

রবিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলীয় নেতৃত্ব ও নির্বাচন থেকে সরাতে সরকার দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। মূলত, বিএনপিকে সবদিক থেকে বেকায়দায় ফেলতে এ অপতৎপরতা শুরু করেছে সরকার।’

‘বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারার মতো নির্বাচন কমিশন অনুরূপ একটি ধারা চালু করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে বিএনপি জানতে পেরেছে। এর উদ্দেশ্য বিএনপির নেতৃত্ব থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া। বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করার জন্য এই অপতৎপরতা শুরু করা হয়েছে।’

তবে নির্বাচন কমিশনের সচিব বলেন, ‘আরপিও সংশোধনের একটা উদ্যোগ আগে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেটা এখন আর হচ্ছে না।’