এমপি-মেয়র সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১

প্রকাশিতঃ 3:01 pm | December 02, 2018

রাজশাহীর বাগমারায় এমপি এনামুলের ক্যাডাররা পিটিয়ে হত্যা করলো তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদের সমর্থক আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে।

নিহত ওই আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম শ্রীচঞ্চল কুমার (৪২)। তিনি তাহেরপুর পাবনাপাড়া গ্রামের শ্রী নরেশের ছেলে। ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মা ষ্টোক করে মৃত্যু শয়্যায় রয়েছে।

তাহোরপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার দুপুরে ওই কর্মীর ওপর অতর্কিত হামলা করে তাকে লাঠি দিয়ে বেদম পেটানো হয়। পরে বিকেল সাড়ে চারটা দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল তিনি মারা যান। এ নিয়ে তাহেরপুর জুড়ে এমপি এনামুল হক ও মেয়র কালাম গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ আজ শনিবার সকালে কয়েকজন নেতা-কর্মী নিয়ে জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বসে ছিলেন। ওই বিদ্যালয়ের তিনি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। এ সময় বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে সাংসদ এনামুল হকের সমর্থক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুলবর হোসেন মুঠোফোনের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মেয়রের লোকজন তাঁর কাছে এই বিষয়ে জানতে চান। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় শুরু হয়। এসময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষককে তারা লাঞ্ছিত করে।

এদিকে এ ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সাংসদ এনামুল হকের সমর্থক সর্বহারা ক্যাডার আর্ট বাবুর নেতৃত্বে সুমন, বিপ্লব, আমজাদ হোসেন, সাবেক যুবলীগ ক্যাডার মাসুদসহ ৩০-৪০ জনের একটি ক্যাডার বাহিনী চঞ্চল হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় তার ওপর হামলা করে। এসময় তারা পিটিয়ে চঞ্চলকে মারাত্মক জখম করে। প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হন। এসময় প্রতিপক্ষের হামলায় কাউছার হোসেন (৪৫) নামের আরেকজন শিক্ষকও আহত হন। পরে চঞ্চলকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তবে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চঞ্চল মারা যান। চঞ্চলের শরীরের দুই জায়গায় ছুরিকাঘাতের জখমও রয়েছে। চঞ্চল কুমারের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌছামাত্রই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। বর্তমানে তাহেরপুর পৌর এলাকায় থমতমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় যে কোন সময় ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা প্রকাশ করছেন।

এছাড়াও সর্বহারা ক্যাডার আর্ট বাবু প্রকাশ্যে এলাকায় অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করলে পুলিশ নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। পুলিশের এমন ভুমিকায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ বলেন, হত্যার ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে রামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে।