কয়লার অভাবে বন্ধ হলো বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রকাশিতঃ 2:07 pm | July 23, 2018

অনলাইন ডেস্ক:
শেষ পর্যন্ত কয়লা সংকটে বন্ধ হয়ে গেলো বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র। গতকাল রবিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক সংরক্ষণ প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মাহবুবুর রহমান বলেন, কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লি.’ (বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি) কয়লা সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করতে তারা বাধ্য হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, কয়লা খনিটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে কয়লাচালিত তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুইটি কেন্দ্রে আগেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ গতকাল রাতে ২৭৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে কয়লাভিত্তিক ৫২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল। এর ফলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উপরও পড়বে।

পিডিবির উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, কয়লা সংকটের কারণে ২৭৪ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে গত কয়েক দিন ধরে দেড়শ’ মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এই কেন্দ্রটি পুরোদমে উৎপাদনে রাখতে প্রতিদিন ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন কয়লা দরকার। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুদ ছিল। আর শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে গত ১৬ জুন থেকে কয়লা উত্তোলনও বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর একবার শিফট পরিবর্তন করে কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিফট পরিবর্তনের আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পর্যাপ্ত কয়লা মজুদ রাখা হয়। এবারও পিডিবিকে এক লাখ টনের বেশি মজুদ রয়েছে বলে খনি কর্তৃপক্ষ জানায়। গত সপ্তাহে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) সাঈদ বড়পুকুরিয়া খনি পরিদর্শন করে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় ১০ হাজার টন মজুদ পান। সব মিলিয়ে যে কয়লার মজুদ রয়েছে, তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আংশিক চালিয়ে রাখলেও এক সপ্তাহের বেশি চলার কথা নয় বলে তিনি তখনই জানিয়েছিলেন।

বড়পুকুরিয়া খনির উত্তোলিত কয়লার মজুদ হিসাবে গড়মিলের ঘটনায় পেট্রোবাংলার পরিচালক (মাইন অপারেশন) মো. কামরুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কোম্পানিটির শীর্ষ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাত্ক্ষনিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।