বিসিএস ফরম পূরণে দোকানদারের প্রতারণা, শঙ্কায় রাবির শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিতঃ 5:42 pm | November 15, 2018

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৪০তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফরম ভুলভাবে পূরণ করে দেওয়ায় পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। যদিও অভিযুক্ত দোকানিদের পুলিশে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সরকারি কর্ম কমিশন প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো সুযোগ দেবে কি না—এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

১৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসার পর তাদের আটক করে প্রক্টর অফিসে দুপুর পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বেলা ২টার দিকে তাদের মতিহার থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আটককৃতরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন মার্কেটের স্পন্দন কম্পিউটারের মালিক মোস্তাক আহমেদ মামুন এবং ভাই ভাই কম্পিউটারের আরিফ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম।

এদিকে ভুক্তভোগী হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোমিন হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবন্ধী না হওয়া সত্ত্বেও প্রায় তিন শতাধিক প্রার্থীকে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ইচ্ছাকৃত প্রতিবন্ধী কোটায় ফরম পূরণ করে দিয়েছেন অভিযুক্তরা। যদিও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটা ছাড়া কর্ম কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফি ৭০০ টাকা নিয়েছেন দোকানদার। আর প্রতিবন্ধী কোটায় ১০০ টাকায় ফরম পূরণ করায় দোকানদারের পকেটে গেছে বাকি ৬০০ টাকা।

দোকানদারের এমন উদ্দেশ্যমূলক কাজের বিষয়টি চক্ষুগোচর হলে সাংবাদিকসহ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন। এর প্রেক্ষিতে তাদেরকে আটক করে প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশে দেওয়া হয় তাদের।

বিসিএসের এবারের পরীক্ষায় আদৌ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বসতে পারবেন কি না—এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে জামাল উদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরম পূরণের সময় দেওয়া আছে। পিএসসি নিজেদের মতো করে চলে। তারা যদি আমাদেরকে সুযোগ না দেয় বা এর মধ্যে যদি বিষয়টি ঠিক করা না যায়, তাহলে পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত হয়ে যাবে।’

সরকারি কর্ম কমিশনের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, ‘পিএসসির সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা পাঠানোর কথা জানিয়েছে তারা। পাঠানোর পর পিএসসি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য টাকা প্রদানের ৭২ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে টাকা নিয়েছে। দোকানদারদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি আমরা। এর আগে তাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়া হবে। পিএসসির সাথে কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না বলে আশাবাদী আমরা।’