হাসপাতালে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসক আটক

প্রকাশিতঃ 6:04 pm | July 16, 2018


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইন্টার্ণ চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।

অভিযুক্ত চিকিৎসক মাকাম এ মাহমুদ মাহী ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার মোখলেসুর রহমানের ছেলে। তিনি ওসমানী মেডিকেলের নাক, কান ও গলা বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক।

ওই কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, রবিবার মধ্যরাতে হাসপাতালের ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের ডক্টরস রুমে এ ঘটনা ঘটে। নবম শ্রেণি পড়ুয়া ওই কিশোরী তার অসুস্থ নানির সঙ্গে রাতে হাসপাতালে ছিলেন।

সোমবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসককে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছন কোতয়ালী থানার ওসি মোশাররফ হোসেন।

স্কুলছাত্রীটির বাবা জানিয়েছেন, অসুস্থ নানির সঙ্গে হাসপাতালে ছিল সে। ওসমানী মেডিকেলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন ওই স্কুলছাত্রীর নানি।

রবিবার রাতে ওই স্কুলছাত্রী ছাড়া আর কেউ রোগীর সঙ্গে ছিল না। রাতে ফাইল দেখার কথা বলে ডাক্তার মাহী ওই মেয়েটিকে একই ফ্লোরে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। সকালে বাবা-মা হাসপাতালে আসার পর স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা তাদের জানায়।

সকাল ৮টার দিকে মেয়ের বাবা-মা ওসমানী মেডিকেলের পরিচালকের কাছে চিকিৎসক মাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এর পর হাসপাতালের চিকিৎসক, পুলিশ ও স্কুলছাত্রীর স্বজনদের মধ্যে বৈঠক হয়। বেলা দেড়টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই মাহীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এ কে এম মাহবুবুল হক বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ওই স্কুলছাত্রীর স্বজনদের এবং ওই চিকিৎসককে নিয়ে বসি। মেয়ের পক্ষ এবং ওই ইন্টার্নের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

তবে মেয়ের পরিবারের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা না হওয়ায় মাহীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে জানা গেছে।

মেয়েটিকে ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া ওয়ার্ডের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাউসার দস্তগীর এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘মাকাম এ মাহমুদ মাহীকে আটক করা হয়েছে। স্কুলছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ওই স্কুলছাত্রীকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা কাউছার দস্তগীর।